প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৫, ২০২৫, ৭:৩৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৬, ২০২১, ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ
কোরবানির ঈদে পশুহাটে আসছে ‘নবাব’, দর উঠেছে ৬ লাখ
এনবি নিউজ : মাদারীপুর নাজিম উদ্দিন সরকারি কলেজের স্নাতকোত্তরের ছাত্রী হাবিবুন্নেছা এখন সফল গবাদিপশুর খামারি। তাঁর খামারের একটি বিরাটকায় গরুর নাম ‘নবাব’। নবাবের ওজন ৭২০ কেজি (১৮ মণ)। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে স্থানীয় বিক্রেতারা গরুটি দেখতে আসছেন, বিভিন্ন দাম বলছেন। ঈদুল আজহার এক মাসের বেশি সময় বাকি থাকায় ব্যবসায়ীরা একটু সময় নিচ্ছেন।
হাবিবুন্নেছার আশা, নবাবকে বিক্রি করবেন ৯ লাখ টাকায়। শুধু তা–ই নয়, এ বছর ঈদুল আজহায় বিক্রি করার জন্য তাঁর খামারে এমন ১৬টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।
হাবিবুন্নেছার বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের কোব্বাছ মাতবরের কান্দি গ্রামে। তিনি মাদারীপুর নাজিম উদ্দিন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে মাস্টার্সের ছাত্রী। ২০১৫ সালে বিয়ে হয় তাঁর। বিয়ের পর সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে স্বামী ইসমাইল মাতবর মালয়েশিয়াপ্রবাসী হন। হাবিবুন্নেছাও বসে না থেকে ২০১৮ সালে গরু পালনের খামার গড়ে তোলেন। করোনার কারণে ইসমাইল মাতবরও প্রবাস থেকে এখন গ্রামে চলে এসেছেন। স্ত্রীর গড়ে তোলা গরুর খামারে তিনিও সময় দিচ্ছেন।
হাবিবুন্নেছার আশা, নবাবকে বিক্রি করবেন ৯ লাখ টাকায়। শুধু তা–ই নয়, এ বছর ঈদুল আজহায় বিক্রি করার জন্য তাঁর খামারে এমন ১৬টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।
ইসমাইল মাতবর বলেন, ‘আমাদের বাড়ি গ্রামে। আমরা কৃষকের সন্তান। পড়ালেখা করলেও কৃষি আমাদের প্রেরণা। তাই স্ত্রী যখন গরুর খামার করার কথা বলে, তখন তাকে উৎসাহ দিই। কঠোর পরিশ্রমের তিন বছরেই তার খামার দাঁড়িয়ে গেছে। করোনার কারণে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে এসেছি। এখন আর ফিরে যাব না। স্বামী-স্ত্রী মিলে খামারটি আরও বড় করে তুলব।’
আড়াই বছর সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে নবাবকে বড় করেছেন হাবিবুন্নেচ্ছা। তাকে বিক্রি করতে হবে ভাবলেই বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যায় বলে জানান। শুক্রবার নড়িয়ার জপসা ইউনিয়নের কোব্বাছ মাদবর কান্দি গ্রামে
হাবিবুন্নেচ্ছা বলেন, ‘তিন বছরে অনেক যত্ন করে গরুর খামারটি গড়ে তুলেছি। ২০১৯ সালে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে নবাবকে কিনে খামারে এনেছি। গত আড়াই বছর সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে নবাবকে বড় করেছি। তাকে বিক্রি করতে হবে ভাবলেই বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যায়। তারপরও যেহেতু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গরু পালন, তাই কষ্ট বুকেই চাপা রাখতে হবে।’
নড়িয়ার গবাদিপশু ব্যবসায়ী শুকুর চান শাহ বলেন, ‘নবাব গরুটি কোরবানির জন্য অনেকেই পছন্দ করবেন। খামারি হাবিবুন্নেছা নবাবের দাম ৯ লাখ টাকা চাইছেন। আমি ৬ লাখ টাকা দাম বলেছি।’
শরীয়তপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র দাস বলেন, গবাদিপশুর খামার করে অনেকেই এখন সফল। নড়িয়ার কলেজছাত্রী হাবিবুন্নেছা খামার করে সফল হয়েছেন। জেলায় ৮ হাজার ৫০০ পরিবার গবাদিপশু পালনের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে বড় খামারি রয়েছেন ৫০০–এর মতো। তাঁরা কোরবানির জন্য ৪৫ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করছেন।
প্রধান নির্বাহী - আরেফিন শাকিল, অফিসঃ নদী বাংলা টাওয়ার, শহীদ বুলু স্টেডিয়াম সংলগ্ন, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী। ফোনঃ 01303-166473