রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অং সান সু চি সেনাবাহিনীর নৃশংসতার সাফাই গেয়ে প্রমাণ করেছেন নিজের অবস্থানটা। কাজেই সামরিক শাসনের কারণে রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটবে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে আলোচনাটা চলছিল, তা হয়তো পেছাবে। সামরিক সরকার হয়তো নতুন করে সময় নেবে। সবচেয়ে বড় কথা, রোহিঙ্গারা কি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফিরতে চাইবে। কারণ, রাখাইনে এমন কোনো পরিবেশ তো ফিরে আসেনি, যাতে রোহিঙ্গারা তাদের আদি নিবাসে ফিরতে উৎসাহিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে যেতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ের ভূরাজনীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে ভারত ও চীন দুই দেশের সঙ্গেই মিয়ানমার সদ্ভাব বজায় রেখে চলেছে। দুই দেশ তাদের নিজেদের স্বার্থেই মিয়ানমারের নতুন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলবে। তবে সব মিলিয়ে চীনের ওপর মিয়ানমারের নির্ভরশীলতা বাড়বে। এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য আমরা চীনকে অনুরোধ জানাতে পারি। তবে সুশাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার—এই মূল্যবোধগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান কি হয় সেটাও দেখার আছে।