দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এনবিআরে প্রতিটি খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইএমএফের কর্মকর্তাদের প্রশ্ন ছিল—এই অর্থনৈতিক চাপের সময়ে শুল্ক-কর আদায় বাড়বে কীভাবে? জবাবে ওই তিন খাতের কর্মকর্তারা গত তিন মাসের রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, বর্তমান ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে গত অর্থবছরের চেয়ে এবারও রাজস্ব আদায়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হবে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায় বাড়াতে করজাল সম্প্রসারণসহ প্রচেষ্টানির্ভর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর বাড়াতে পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন আইএমএফের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি রাজস্ব খাতের সংস্কারে অটোমেশন, নতুন কাস্টমস ও আয়কর আইন প্রণয়নের তাগিদও দেওয়া হয়েছে। কোন আইন কবে চালু হবে, তা জানতে চেয়েছেন তাঁরা। জবাবে শুল্ক খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাস্টমস আইনটি পাসের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হয়েছে। এটি কবে পাস হবে, তা আইনপ্রণেতারা ঠিক করবেন। অন্যদিকে আয়কর আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
সার্বিকভাবে করভার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন আইএমএফের কর্মকর্তারা। শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে গড় আমদানি শুল্কভার ১৪ শতাংশের মতো। আর সার্বিকভাবে আমদানি শুল্কের গড় সংরক্ষণ হার ২৯ শতাংশের মতো। ধীরে ধীরে এই হার কমিয়ে আনা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভ্যাট খাতের সংস্কারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে আইএমএফ। আইএমএফ-কে জানানো হয়েছে, অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই পর্যন্ত আট হাজার ভ্যাটের মেশিন বসেছে। আরও তিন লাখ ভ্যাটের মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভ্যাট আদায় যেমন বাড়বে, তেমনি কালোটাকার দৌরাত্ম্য কমবে।