• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
আর্থিক অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল বেগমগঞ্জের সন্তান মামুনের ঢাকা বার জয় ফেনীতে হেযবুত তওহীদের ঈদ পুনর্মিলনী ও কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত বেগমগঞ্জ ডায়বেটিক সমিতির উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে যাত্রা শুরু “ওরগ্যানাইজেশন ফর ডিবেট ডেভেলপমেন্ট সংগঠনের চৌমুহনী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগ চাঁদপুরে হেযবুত তওহীদের ইদ পুনর্মিলনী ও বনভোজন অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সেবায় ছাত্রদল নেতা জিকু অবশেষে বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন লুবাবা নোয়াখালী কারাগার যেন একরামের রাজপ্রাসাদ

চৌমুহনী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিমের বিরুদ্ধে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল বিত্তবৈভব গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ডিলার, ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগে জানা যায়, আবদুল করিম বিগত সরকারের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য বিভাগে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। বদলি বাণিজ্য, চাল-আটা বরাদ্দে কমিশন এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

বেগমগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, সরকারি অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা হলেও আবদুল করিমকে দিনের বেলায় অফিসে পাওয়া যায় না। তিনি নিয়মিত সন্ধ্যার পর অফিসে এসে কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং তখনই বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডিলারদের অভিযোগ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকার চাল বিতরণে তিনি প্রতি মেট্রিক টনে প্রায় ৩ হাজার টাকা ঘুষ নেন এবং প্রায়ই ওজনে কম দেন। কাদিরপুর ইউনিয়নের এক ডিলার অভিযোগ করেন, ঘুষ না দেওয়ায় ৫০ কেজির বস্তার পরিবর্তে ৩০ কেজির বস্তা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে রসুলপুর ইউনিয়নেও বস্তাপ্রতি প্রায় ৮ কেজি চাল কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া কাবিখা কর্মসূচির চাল বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। চৌমুহনী সরকারি দুইটি পুকুর দখল করে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি এক সাংবাদিকের সঙ্গেও খারাপ আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি অর্থে নিম্নমানের ও পচা চাল ক্রয়ের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় একটি অটোরাইস মিল থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করে সরকারি গুদামে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলার প্রায় ১৬টি ইউনিয়নের ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন আদায় করা হয়। কোনো ডিলার টাকা দিতে দেরি করলে তাকে গুদাম থেকে প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়া হয়, ফলে ডিলারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবদুল করিম ঢাকার ধানমন্ডিতে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক। এছাড়া ফেনী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেও মোটা অংকের ঘুষের মাধ্যমে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন নিশ্চিত করেছেন। সেনবাগ উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ৩শ’ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল এবং এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্তে নামে।

অভিযুক্ত আবদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো.আসিফ পারভেজ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৭৮৯১০১১
১১৩৪১৫১৬১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৯৩০৩১