মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া ১১৬ জনের মধ্যে ডিএমপির উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আছেন ১৯ জন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মর্যাদার ১৬ জন। এ ছাড়া ৭৪ জন পুলিশ কনস্টেবল, ৫ জন নায়েক এবং ১ জন সার্জেন্টের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১৬ জনের মধ্যে মাদক মামলার আসামি ২৮ জন। এর বাইরে ধর্ষণ (৯ জন), ছিনতাই (৬ জন), পারিবারিক বিরোধ ও নারী নির্যাতন (১৮ জন), পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন (৫ জন), হত্যাকাণ্ড (৩ জন), চাঁদাবাজি (১২ জন), অপহরণ (৪ জন), অস্ত্র (৫ জন), ডাকাতি (৫ জন), চুরি (৫ জন), প্রতারণা (৬ জন), সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড (১ জন), সড়কে মৃত্যু ঘটানো (১ জন), হত্যাচেষ্টার (১ জন) অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। তবে ছয়জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় অপরাধের ধরন জানা যায়নি।
ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম টেলিফোনে এনবি নিউজকে বলেন, ডিএমপির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর ছাড় নেই। তথ্য-প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে ওই সব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আগেও ফৌজদারি মামলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।
পুলিশ ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য বলছে, ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছর (২০২০) ২৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মামলা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি মামলা (৩৭ জনের বিরুদ্ধে) হয় ২০১৯ সালে। ২০১৮ সালে ১২ জন, ২০১৭ সালে ৬ জন, ২০১৬ সালে ২ জন, ২০১৫ সালে ১১ জন, ২০১৪ সালে ১১ জন, ২০১৩ সালে ২ জন, ২০১২ সালে ৬ জন এবং ২০১১ সালে ১ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ নুরুল হুদা এনবি নিউজকে বলেন, যাঁরা ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় মামলা করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের নামে ফৌজদারি মামলা দিয়ে বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।