স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে খোকসায় রুবেলকে আশ্রয় দিয়েছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার। পরে অবশ্য বাবুলের করা মামলাতেই গ্রেপ্তার হন রুবেল। বাবুলের সুবাদেই খোকসায় এলে রুবেল থাকতেন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে। তাঁর নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক থাকত গ্রাম পুলিশ।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রুবেল আহমেদ বলেছেন, এক ব্যক্তির মাধ্যমে কয়েক মাস আগে চেয়ারম্যান বাবুল আক্তারের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। তিনি নিজেকে কানাডার এনজিও সিসিআরসির প্রধান নির্বাহী বলে পরিচয় দিতেন। এলাকার লোকজনকে তিনি বলেন, সিসিআরসি দরিদ্রদের ঘর তৈরি, টিউবওয়েল বিতরণ ও নদীভাঙন রোধে অনুদান দেবে। পর্যায়ক্রমে তিনি বেতবাড়িয়া ইউনিয়ন এলাকা জরিপ করে দুই শ লোকের তালিকা তৈরি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলেন, এলাকায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল হবে। অফিস নির্মাণের জন্য জায়গাও ঠিক করেন। এসব প্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য ৮ শতাংশ জমি রুবেল আহমেদ ৫০ হাজার টাকায় বায়না করেন। সবার বিশ্বাস অর্জনে তিনি হেলিকপ্টারে করে খোকসায় যান, ডকুমেন্টারি তৈরি করেন ও কনসার্ট করেন।
একদিন খোকসায় তাঁর সহযোগীদের রুবেল বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য ১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার তহবিল পাওয়া গেছে। এ তহবিল ছাড় করানোর জন্য আড়াই শতাংশ হারে কর দিতে হবে জানিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে ৪৩ লাখ টাকা আদায় করেন। ঘর নির্মাণের কথা বলে তিনজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি, সিসিআরসির নামে ভুয়া খুদে বার্তা পাঠানোর কাজে তাঁকে তানজীর সাহায্য করেছেন বলেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার তৌহিদুল ইসলাম এনবি নিউজকে বলেন, টাকাপয়সা নিয়ে রুবেল গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছিলেন।