আসাদুজ্জামান তপন : তালাবদ্ধ ঘর, বাইরে সশস্ত্র পাহারা; তার মধ্যেই বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গায়েব হয়ে গেছে কয়লার মান নির্ণয়ের একটি দামি যন্ত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের ‘বোম্ব ক্যালরিমিটার’ যন্ত্রটি কয়লার অভাবে কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরদিন ১৫ জানুয়ারি চুরি হলেও এখনও তা উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তথ্য জানিয়ে রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দিন এনবি নিউজকে বলেন, “তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা পরীক্ষার যন্ত্র চুরির ঘটনায় আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।”
তবে তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি পুলিশের এই কর্মকর্তা।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও নিরাপত্তা) মো. অলিউল্লাহ বাদী হয়ে করা মামলার একটি এজাহারের কপি পাওয়া গেছে; তাতে দেখা যাচ্ছে আসামি হিসেবে কারও নাম নেই। বলা হয়েছে, ‘অজ্ঞাতনামা চোর/চোরেরা সকলের অজান্তে ঘটনাস্থল থেকে চুরি করিয়া নিয়া গিয়াছে’।
মো. অলিউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “চুরির ঘটনায় আমরা মামলা করেছি, এখন তদন্ত কাজ চলছে।“
চুরির সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করলেও সন্দেহভাজনের তালিকায় তাদের নাম না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে এড়িয়ে যান ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ।
এ ছাড়া ওই রাতে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সম্পর্কে এবং সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে ‘আমি কিছু জানি না’ বলে কল কেটে দেন মামলার বাদী।
ডলার সংকটে কয়লা আমদানি করতে না পারায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার ২৭ দিনের মাথায় গত ১৪ জানুয়ারি বন্ধ হয়ে যায় এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫৬০-৫৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। এর মধ্যে সাড়ে ৪০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে এবং বাকিটা খুলনা অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো।
এর পরের দিন চুরির ঘটনাটি ঘটে উল্লেখ করে মামলায় বলা হয়েছে, গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় কেন্দ্রের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, কেমিস্ট আব্দুল মালেক ল্যাব বন্ধ করার সময় টেস্টিং যন্ত্রটি টেবিলের উপরেই ছিলো। আব্দুল মালেক চলে যাওয়ার আগে তালার চাবি ল্যাব-১ এর মুসা পারভেজকে দিয়ে ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. সাদ্দাম হোসেন ও তানভীর রহমানকে দিতে বলেন। মুসা পারভেজ তাদের চাবি দেন।
রাত ১০টায় সে স্থানে দায়িত্ব পালন করতে আসেন মো. জাকারিয়া আল রাজী এবং মাসুম বিল্লাহ। তারা ১৫ জানুয়ারি সকাল ৭টায় দায়িত্ব শেষ করেন। এ সময় মো. সাদ্দাম হোসেন এবং মো. মাসুম বিল্লাহ দায়িত্ব নেন। সকাল ৯টার দিকে রুম ক্লিনার আব্দুল নোমান ল্যাব-২ পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখেন টেবিলে যন্ত্রটি নেই। তারপর তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।